খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর উপাচার্য ড. মুহাম্মদ মাছুদ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহেদুজ্জামান শেখ জানান, উপাচার্য একদিনের জন্য ঢাকায় অবস্থান করবেন।
সংগ্রহীত ছবি। সোর্স : Kalbelaআন্দোলনের পটভূমি
মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। সংঘর্ষ ক্যাম্পাসের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরাও জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে।
শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগের দাবি জানান। তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না, থাকলে আজীবন বহিষ্কারের বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি।
মঙ্গলবারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা।
আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় প্রশাসন থেকে বহন করা।
ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগ।
উপাচার্যের অবস্থান
শাহেদুজ্জামান শেখ জানান, মঙ্গলবার একদল শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে তার ওপর হামলা করে এবং পদত্যাগের দাবি জানায়। এরপর থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপাচার্য অনলাইনে অংশ নেন। সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়:
ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা হবে।
মঙ্গলবারের ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।
আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, তবে হলগুলো খোলা রাখা হবে।
এছাড়া, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান
শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে "অপর্যাপ্ত" বলে উল্লেখ করে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা বলেছেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না এবং কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্যাম্পাসের ভাস্কর্য দুর্বার বাংলার পাদদেশে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ক্যাম্পাসের সব রাজনৈতিক সংগঠনকে "লাল কার্ড" দেখান।
শেষ কথা
কুয়েটের এই আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরে আসে।
এই ঘটনার পরবর্তী আপডেট পেতে বাংলা উইকি বিডির সঙ্গে থাকুন। নিয়মিত ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজ।
আরো পড়ুন:
১, ইতিহাসের নামে আর কোনো গল্প চাই না: জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান
আপনার মূল্যবান মতবাদ জানাতে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ জয়েন করু। কল বাংলা নিউজ সবার আগে জানতে এখনই আমাদের সোশ্যাল সাইট গুলি ফলো করুন।
আমাদের সোশ্যাল প্লাটফর্ম জয়েন করুন