খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা এই পদক্ষেপ নেন। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভের পটভূমি
শিক্ষার্থীরা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।
মঙ্গলবারের সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করা।
ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা।
উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগ।
এই দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। তারা স্লোগান দেন, "ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই কুয়েটে হবে না", "সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও", এবং "দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ"।
উপাচার্যের অবস্থান
উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রওনা দেন। তার পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে সহ-উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য তার পদত্যাগের দাবি সম্পর্কে বলেছেন, "আমরা যদি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নিই এবং সব ব্যবস্থা করি, তাহলে আমাদের পদত্যাগ করার কোনো কারণ নেই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।"
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠকে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়:
ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা হবে।
মঙ্গলবারের সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে।
আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে, তবে হলগুলো খোলা রাখা হবে।
এছাড়া, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অন্যান্য কর্মসূচি
শুক্রবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা ‘রক্তাক্ত কুয়েট ১৮.০২.২৫’ শিরোনামে একটি ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এই প্রদর্শনীতে আহত শিক্ষার্থীদের ছবি এবং আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং দাবি পূরণে অনীহায় ক্ষুব্ধ।
শেষ কথা
কুয়েটের এই আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরে আসে।
আরো পড়ুন:
১, ইতিহাসের নামে আর কোনো গল্প চাই না: জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান
আপনার মূল্যবান মতবাদ জানাতে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ জয়েন করু। কল বাংলা নিউজ সবার আগে জানতে এখনই আমাদের সোশ্যাল সাইট গুলি ফলো করুন।

আমাদের সোশ্যাল প্লাটফর্ম জয়েন করুন