রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হতে যাচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে তাদের যাত্রা শুরু করবে। দলটির নাম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আত্মপ্রকাশের দিনই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
নতুন দল গঠনের পটভূমি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তুমুল ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নতুন একটি শক্তির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন অনেকেই। এই প্রেক্ষাপটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলটির আত্মপ্রকাশের তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, "আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে আমাদের আত্মপ্রকাশের শপথ নিতে চাই।"
দলের নাম ও গঠন প্রক্রিয়া
নতুন দলের নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, জনতার দল, নতুন বাংলাদেশ পার্টি, বিপ্লবী দল, নাগরিক শক্তি, ছাত্র জনতা পার্টি, বাংলাদেশ বিপ্লবী পার্টি, রিপাবলিক পার্টি, জাতীয় শক্তি সহ ৩০টিরও বেশি নাম প্রস্তাবিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত নাম আত্মপ্রকাশের দিনই জানানো হবে।
দল গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আখতার হোসেন বলেন, "বর্তমান কমিটির বড় একটি অংশ নিয়ে নতুন দল গঠন করা হবে। এছাড়াও, প্রায় ৩০% নতুন মুখ যুক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১৫০ থেকে ২০০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে, যা ধীরে ধীরে ৩০০ সদস্যে উন্নীত হবে। সমান্তরালভাবে জেলা ও থানা কমিটি গঠনের কাজও চলছে।"
মানুষের প্রত্যাশা ও জরিপের ফলাফল
নতুন দল গঠনের আগে 'আপনার চোখে নতুন বাংলাদেশ' শীর্ষক একটি জরিপ চালানো হয়। এই জরিপে দুই লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর জোর দিয়েছেন।
আখতার হোসেন বলেন, "মানুষ চান নেতৃত্ব নির্বাচনে সততা ও আদর্শের গুরুত্ব থাকুক। দল যেন একনায়কতন্ত্র বা পরিবারতন্ত্রের কবলে না পড়ে, সেদিকেও সচেতন থাকতে হবে। দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চার বিষয়টিও মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা
শুক্রবারের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবার, কূটনীতিক, নির্যাতিত পরিবার, আন্দোলনকারী, ছাত্র-জনতা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সারজিস আলম বলেন, "এই দলটি হাজারো শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ নয়, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই প্রাধান্য পাবে।"
নতুন দলের সম্ভাব্য নেতৃত্ব
নতুন দলের আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নাম আলোচিত হচ্ছে। সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেন ও নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ ও সমন্বয়ক আরিফ সোহেলসহ অন্যান্য নেতারা নতুন দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেষ কথা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে এই দল কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলবে। তবে সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দলের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
আরো পড়ুন:
১, নতুন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে সমঝোতা: কারা হচ্ছেন নেতৃত্বে?
আপনার মূল্যবান মতবাদ জানাতে আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ জয়েন করু। কল বাংলা নিউজ সবার আগে জানতে এখনই আমাদের সোশ্যাল সাইট গুলি ফলো করুন।

আমাদের সোশ্যাল প্লাটফর্ম জয়েন করুন